বড়দিন ও নববর্ষের ছুটিকে ঘিরে চলতি মৌসুমে বিশ্বজুড়ে আকাশপথে ভ্রমণ রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছতে যাচ্ছে। এয়ারলাইনস ডাটা প্লাটফর্ম অফিশিয়াল এভিয়েশন গাইডের (ওএজি) তথ্যানুযায়ী, ১৫ ডিসেম্বর থেকে ৪ জানুয়ারি পর্যন্ত বিশ্বের ৪০টি দেশ থেকে মোট ৩০ কোটি ৯ লাখ মানুষ উড়োজাহাজে ভ্রমণ করবে। এটি গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৪ শতাংশ বেশি। খবর ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস।
বিশ্লেষকরা বলছেন, চীন, ভারত, ব্রাজিল ও মেক্সিকোর মতো বড় দেশগুলো থেকে আকাশপথে ভ্রমণ চাহিদা শক্তিশালী থাকায় যাত্রী সংখ্যা বাড়ছে। কভিড-১৯ মহামারীর পর আকাশপথে ভ্রমণ খাতে যে পুনরুদ্ধার শুরু হয়েছিল, তা এখন আরো জোরালো হয়ে উঠছে।
এয়ারলাইনস শিল্প সংগঠন ইন্টারন্যাশনাল এয়ার ট্রান্সপোর্ট অ্যাসোসিয়েশনের পূর্বাভাস অনুযায়ী, ২০২৬ সালে বিশ্বজুড়ে ৫২০ কোটির বেশি যাত্রী আকাশপথে ভ্রমণ করতে পারে। বাণিজ্য উত্তেজনা ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা থাকা সত্ত্বেও এ খাতে প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।
যুক্তরাজ্যেও বড়দিনের আগে ও পরে আকাশপথে যাত্রী চলাচল বেড়েছে। দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা সিভিল এভিয়েশন অথরিটি জানিয়েছে, বড়দিনের আগের সাতদিনে প্রায় ৩০ লাখ মানুষ দেশটির বিমানবন্দরগুলো থেকে উড়োজাহাজে ভ্রমণ করেছে।
সংস্থাটির পরিচালক সেলিনা চাধা বলেন, ‘এখন আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আকাশপথে বেশি মানুষ ভ্রমণ করছে। বড়দিনের ছুটিতে এবার আকাশপথে যাত্রী চলাচল সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছতে পারে।’
সিভিল এভিয়েশন অথরিটির তথ্যানুযায়ী, যুক্তরাজ্যে আকাশপথে ভ্রমণে সবচেয়ে ব্যস্ত দিন ১৯ ডিসেম্বর। সেদিন প্রায় ৪ লাখ ৬০ হাজার টিকিট কাটা হয়েছিল। বড়দিনের দিনও প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ টিকিট কেটেছে। এটি গত বছরের তুলনায় ১৩ শতাংশ বেশি।
যুক্তরাষ্ট্রেও একই চিত্রের তথ্য দেয়া হয়েছে ওএজির প্রতিবেদনে। প্লাটফর্মটির তথ্যানুযায়ী, তিন সপ্তাহের এ ছুটির সময়ে দেশটিতে প্রায় সাত কোটি মানুষ উড়োজাহাজে ভ্রমণ করবে। সবচেয়ে ব্যস্ত এয়ারলাইনসগুলোর তালিকায় রয়েছে আমেরিকান এয়ারলাইনস, ডেল্টা এয়ারলাইনস, ইউনাইটেড এয়ারলাইনস ও সাউথওয়েস্ট এয়ারলাইনস। প্রতিটি এয়ারলাইনসই এ সময়ে ১ কোটি ৩০ লাখের বেশি যাত্রী পরিবহন করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ইউরোপে সবচেয়ে ব্যস্ত এয়ারলাইনস হতে যাচ্ছে রায়ানএয়ার।
আকাশপথে যাত্রী চলাচল বাড়ায় ব্যস্ত সময় পার করছে বিমানবন্দরগুলো। সবচেয়ে ব্যস্ত দুটি বিমানবন্দর হচ্ছে দুবাই ও আটলান্টা। দুবাই বিমানবন্দরে সব ফ্লাইটই আন্তর্জাতিক। আটলান্টা বিমানবন্দরে ৯০ শতাংশের বেশি যাত্রী অভ্যন্তরীণ রুটে ভ্রমণ করবে। ব্যস্ত রুটের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে দক্ষিণ কোরিয়ার জেজু-সিউল রুট। এ রুটে গত বছরের তুলনায় প্রায় এক-তৃতীয়াংশ বেশি যাত্রী ভ্রমণ করবে। দ্বিতীয় ব্যস্ত রুট হবে ভিয়েতনামের হ্যানয়-হো চি মিন সিটি।
তবে এ ব্যস্ততার মধ্যেই চাপ বাড়ছে এয়ারলাইনসগুলোর ওপর। শীতকালীন আবহাওয়া, পরিচালন জটিলতা ও কর্মীসংক্রান্ত বিধিনিষেধের কারণে বিলম্ব ও ফ্লাইট বাতিলের ঝুঁকি রয়েছে। নতুন পাইলট বিশ্রাম বিধি মানতে গিয়ে দুই হাজারের বেশি ফ্লাইট বাতিল করতে বাধ্য হয়েছে ভারতের বাজেট এয়ারলাইনস ইন্ডিগো।
তবে শিল্পসংশ্লিষ্টদের মতে, যাত্রী চাহিদা বাড়ায় এয়ারলাইনসগুলোর আসন পূর্ণতার হার রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে। উড়োজাহাজের সংখ্যা অপ্রতুল হওয়ায় এ হার আরো বেড়েছে।